Friday, 30 June 2017

Bhajahari Manna : Evolution of the Song

ভজহরি মান্না : কবিতা থেকে গান


== এই ব্লগে প্রদর্শিত অপরের রচনাংশ, স্থিরচিত্র বা অলংকরণের কপিরাইট আমাদের নয় ==
পোস্টের বক্তব্য স্পষ্টতর করতে এগুলি সাজানো হচ্ছেকোনও ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়
From the 'Blogus' blog.
গীতিকার / কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্নাগানটির বিবর্তন ।
রাঁধুনী-মিঠুয়া’-র ছবি ।। নারায়ণ দেবনাথ





গায়ক, পাচক-সাজে করছেন রান্না !
মান্না-র সেই রূপ
দেখে বুঝি নিশ্চুপ
পুলক-কলমে এল তখনি সে-গান না -

আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না ???


এমনটাই তো রয়েছে গায়ক এবং গীতিকার-এর আত্মকথায় ।
মান্না দে বান্দ্রা-র ফ্ল্যাটে রন্ধনরত ।
অভিনব সেই দৃশ্যের সাক্ষী বন্ধুবর
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
সাদা কাগজে তিনি লিখে ফেললেন এক পদ্য । ভূমিষ্ঠ হলেন
ভজহরি মান্না
পরে চরিত্রটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেলেন ‘প্রথম কদম ফুল’ ছায়াছবির সঙ্গে । সুরের জালে



কিন্তু তার আগে ?
গানে রূপান্তরিত হওয়ার রাস্তায় কবিতাটিকে পেরোতে হয়েছিল কয়েকটি ধাপ ।
BlOGUS  ব্লগে আজ তারই গপ্পো ।


‘দেশ’-এর পাঠকদের ‘প্রথম কদম ফুল’ দান করেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
১৩৬৬ - ১৩৬৭ নাগাদ ।

From the 'Blogus' blog.
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এবং তাঁর ধারাবাহিক উপন্যাস
প্রথম কদম ফুল’-এর হেডপীস, ‘দেশ’, ১৩৬৭ ।
শিল্পী ।। অজ্ঞাত

অতঃপর পত্রিকার ধারাবাহিক উপন্যাস বাঁধা পড়ল দু’মলাটের মাঝে ।

From the 'Blogus' blog.
প্রথম কদম ফুল’ গ্রন্থের বিজ্ঞাপন,
‘দেশ’, ১৩৬৮ ।

শেষ পর্যন্ত বই থেকে ফিল্ম । (পরে বোধহয় দূরদর্শন সিরিয়ালও ।)

১৯৭০ সালে শ্রী, প্রাচী, ইন্দিরা-তে মুক্তি পেল পরিচালক ইন্দর সেন-এর প্রথম সৃষ্টি
সৌমিত্র-তনুজা-শুভেন্দু অভিনীত ‘প্রথম কদম ফুল

From the 'Blogus' blog.
প্রথম কদম ফুল’ (১৯৭০) ছবির প্রচারপুস্তিকা ।
পরিচালক ।। ইন্দর সেন
 
ছবিতে এক গণ্ডা গান । তার তিনখানিই লিখলেন স্বয়ং সঙ্গীত-নির্দেশক । সুধীন দাশগুপ্ত

আজও জনপ্রিয় বাংলা ছায়াগীতির তালিকায় তাদের উপস্থিতি অবধারিত

তবু সব ছাপিয়ে বুঝি গান # ৪ !
সম্পর্কের টানাপড়েনের কাহিনি । তার সঙ্গে মানানসই রোম্যান্টিক গানত্রয়ী

কিন্তু কিঞ্চিৎ স্বাদ-বদল না হলে চলে ?
অতএব ... পিকনিক সিকোয়েন্স । নায়ক-নায়িকার ওপর থেকে সরলো ফোকাস ।
পর্দায় অপ্রত্যাশিত এক অতিথি শিল্পী ।
কণ্ঠে তাঁর মুম্বাই-তে বসে লেখা সেই বিচিত্র গীত । ঈষৎ পরিবর্তিত চেহারায় ।
রচয়িতা ? অবশ্যই
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়

বাণী । সুর । গায়কী ।
তিনটির বিচারেই বাংলা হাস্যগীতির হিস্ট্রিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে ‘আমি শ্রী শ্রী
ভজহরি মান্না
যার সম্মিলিত রূপকার
পুলক-সুধীন-মান্নাএবং শমিত ভঞ্জ
From the 'Blogus' blog.
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুধীন দাশগুপ্ত, মান্না দে
 

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩১ - ১৯৯৯) গীতিকার । ছড়াকারও বটে ।
সম্ভবত ‘শ্যামলী’ (১৩৭০) বার্ষিকী দিয়ে শুরু ।
তারপর থেকে দেব সাহিত্য কুটীর শারদীয়ার ‘হাসির কবিতা’ বিভাগে প্রায় প্রতি বছর
তাঁকে পাওয়া যেত ।

পুলকবাবুর বহু কবিতার এক চরিত্র মিঠু, মিঠুয়া বা মিঠুরাম
মিঠুর ডাক্তারী’ (‘শ্যামলী’, ১৩৭০), ‘মিঞা-কি-মল্লার’ (‘নীহারিকা’, ১৩৭২), ‘আদুরে মিঠুয়া’ (‘অরুণাচল’, ১৩৭৩), ‘যা ছিলাম আছি তাই’ (‘বেণুবীণা’, ১৩৭৪),
রাঁধুনী-মিঠুয়া’ (‘ইন্দ্রনীল’, ১৩৭৫), ‘কি ভয়ানক পদ্য [য], (‘শুকসারী’, ১৩৭৬), ‘উমাপতির কীর্ত্তি’ (‘বিভাবরী’, ১৩৯০) - সবেতেই মিলবে এই নাম

এইসব বার্ষিকীর বাইরেও মিঠু-প্রসঙ্গ বর্তমান

যেমন ‘শুকতারা’, আশ্বিন ১৩৮৫ সংখ্যার ‘দূরদর্শন

কিংবা ‘মিঠুরাম মান্না’ শীর্ষক ছড়া ।

মিঠুরাম মান্না’ প্রকাশিত হয় ‘শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকা’-র ‘আনন্দমেলা’ বিভাগে, ১৩৭০ সনে ।
এটিই সম্ভবত ‘আমি শ্রী শ্রী
ভজহরি মান্না’ গানের আদিতম সংস্করণ ।
BlOGUS-বন্ধুরা মিলিয়ে দেখতে পারেন ।

From the 'Blogus' blog.
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় -এর ‘মিঠুরাম মান্না’,
‘শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকা’, ১৩৭০ ।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় ।
পাঁচ বছর বাদে পদ্যটি আবার পরিবর্তিত, তথা পরিবর্ধিত হল ।
শিরোনামও গেল বদলে ।
রাঁধুনী-মিঠুয়া’-র পাকশালা এবার দেব সাহিত্য কুটীর পূজাবার্ষিকী ‘ইন্দ্রনীল’ (১৩৭৫) ।
অলংকৃত করলেন শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ
সেই সচিত্র মূর্তিখানিও প্রদর্শিত হচ্ছে
BlOGUS ব্লগে ।

From the 'Blogus' blog.
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় -এর ‘রাঁধুনী-মিঠুয়া’,
‘ইন্দ্রনীল’ (১৩৭৫),  দেব সাহিত্য কুটীর ।
শিল্পী ।। নারায়ণ দেবনাথ


From the 'Blogus' blog.
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় -এর ‘রাঁধুনী-মিঠুয়া’,
‘ইন্দ্রনীল’ (১৩৭৫),  দেব সাহিত্য কুটীর ।
শিল্পী ।। নারায়ণ দেবনাথ

১৯৬৩ সালে ‘মিঠুরাম মান্না’ ।
১৯৬৮-তে ‘রাঁধুনী-মিঠুয়া’ ।

আর ২৪ শে জুলাই ১৯৭০-এ বড়পর্দায় হাজির হলেন ভজহরি মান্না !
মিঠুরাম-এর পরিবর্তে ।
বিবিধ পদ মিশিয়ে মিঠু রেঁধেছিলেন ‘উচ্ছের ছেঁচকি’ ।
ফিল্মের তরুণ
ভজহরি তাতে ঢাললেন রোমান্সের সস ।
তৈরি হল ‘প্যারিস-এর ছেঁচকি’ ।
দস্তুরমত পদ-পরিবর্তন !

দক্ষ আঙুলে নিজের দীর্ঘ কবিতায় ছুরি চালালেন
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়
দিলেন গান-রান্নার উপযুক্ত চেহারা ।
সুস্বাদু সুধীন-স্বরলিপিতে সে রন্ধন হল অভূতপূর্ব ।
সরস দাপুটে ভঙ্গিতে পরিবেশন করলেন মান্না দে
যাঁর রাঁধুনি-রূপ ছিল এই সৃষ্টির পয়লা অনুপ্রেরণা ।

সব মিলিয়ে গানটি দাঁড়াল স্বয়ং ভজহরি মান্না-র রেসিপির মত । সহজ । অথচ অভিনব ।
“পাবেন না মশলাটা যেখানেই যান না” ...


পুনশ্চ ।।
মান্না দে এবং
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় - উভয়ের স্মৃতিকথা অনুসারে গায়কের বসবার ঘরে বসে রচিত হয় ‘আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না’ ।
তাই কি ?
নাকি বান্দ্রা-র ফ্ল্যাটে সৃষ্ট হন তারই আদি-সংস্করণ - ‘মিঠুরাম মান্না’ ?

পুনঃপুনশ্চ ।।
হলুদ ব্যাকগ্রাউণ্ডে কাঠ-বুড়ো ।
ইদানীং এই ইমেজ জড়িয়ে গেছে ‘
ভজহরি মান্না’ নামটির সঙ্গে ।
আমাদের চালশে-চোখে কিন্তু এখনো টুইস্ট নেচে চলেছেন সুদর্শন শমিত ভঞ্জ
https://youtu.be/CO7LKzlrg2M


From the 'Blogus' blog.
ভজহরি মান্না-র ভূমিকায়
শমিত ভঞ্জ,

প্রথম কদম ফুল’ (১৯৭০) ।

 
তথ্যসূত্র ।।
১) ‘কথায় কথায় রাত হয়ে যায়’, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, জুলাই ১৯৯৯ ।
২) ‘জীবনের জলসাঘরে’, মান্না দে, অনুলেখক
: . গৌতম রায়, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, জানুয়ারি ২০০৫ ।
৩) ‘সুধীন দাশগুপ্ত’, সম্পাদনা
: অশোক দাশগুপ্ত, আজকাল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, জানুয়ারি ২০০৯ ।

6 comments:

  1. Ami to bhebechilam ei chorata ekbar i Sharaodiya Anondobazar,1370 e ber hoi. Darun laglo pore, ebar mon diye chorata porbo, Pulak babu Shuktara teo chora likhechen, porecho ki?

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ অর্ণব !
      হ্যাঁ - 'শুকতারা'-তে পুলক বাবু-র কয়েকটি ছড়া চোখে পড়েছে ।
      'দূরদর্শন' শীর্ষক একটির উল্লেখ রইল এই পোস্টে । :)

      Delete
  2. darun darun...jantami na Mithuram Mannar katha, khuje ber korar chokh aache bote moshai apnar.....osesh dhonnobad post korar jonne

    ReplyDelete
    Replies
    1. দেবজ্যোতি বাবু, আপনার বক্তব্য / মতামত Blogus-এর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ।
      ভীষণ আনন্দ পেলাম ।
      ভাল থাকবেন । পাশে থাকবেন ।

      Delete
  3. durdanto anusandhan. tobe anandabajarer kabitata jeno gantar cheye beshi bhalo.hoho

    ReplyDelete
    Replies
    1. Blogus ব্লগের তরফ থেকে অশেষ ধন্যবাদ প্রীতম বাবু !

      Delete