Saturday, 17 September 2016

The Annual Shibram (1940 - 1951)


শারদ শিবরাম (১৯৪০ – ১৯৫১)

== এই ব্লগে প্রদর্শিত অপরের রচনাংশ, স্থিরচিত্র বা অলংকরণের কপিরাইট আমাদের নয় । ==
পোস্টের বক্তব্য স্পষ্টতর করতে এগুলি সাজানো হচ্ছে । কোনও ব্যবসায়িক স্বার্থে নয় ।

From the 'Blogus' blog.
শিবরাম চক্রবর্তী (১৯০৩ – ১৯৮০) ও দেব সাহিত্য কুটীর পূজাবার্ষিকী ।


********************************************************************************
সুদুর্লভ বই ও বার্ষিকীর অলংকরণ এবং সেই সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ করে দিয়ে নিঃস্বার্থে সাহায্য করেছেন
শ্রী দেবাশিস গুপ্ত, শ্রী কুন্তল মণ্ডল, শ্রী সমুদ্র বসু, শ্রী ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রী প্রণব ভট্টাচার্য, শ্রী সোমনাথ দাশগুপ্ত ।
এঁরা সকলেই ব্যস্ত মানুষ । 
তবু যে এই অকিঞ্চিৎকর প্রয়াসের জন্য সময় ও শ্রম ব্যয় করতে কুণ্ঠিত হননি, তার মূলে এঁদের সংরক্ষণ-সদিচ্ছা এবং শিবরাম-প্রীতি ।
BlOGUS সবিশেষ কৃতজ্ঞ ।
********************************************************************************

১৯৩১ (১৩৩৮) থেকে দেব সাহিত্য কুটীর-এর সুদৃশ্য শারদ সংকলনসমূহ প্রকাশের সূচনা । 

১৯৩৬-এর ‘শিশু গল্পিকা’-য় একটি গল্প ছিল শিবরাম চক্রবর্তী-র । কিন্তু বার্ষিকীর পরবর্তী কোনো সংস্করণ থেকে তা বাদ পড়ে ।   
লেখক-লিস্টে তাঁর নাম নিয়মিতভাবে যুক্ত হল ১৯৪০ সালে ।
পরের চার দশক ধরে, ‘হাসির গল্প’ অংশে তিনিই ছিলেন অন্যতম আকর্ষণ ।

১৯৪০ – ১৯৫১ - এই সময়কালের বারোটি শিবরাম-কাহিনির এক ফিরিস্তি থাকছে আজ BlOGUS ব্লগে ।
বিশ্লেষণ নয় । গবেষণা নয় । স্রেফ সচিত্র ন্যাড়া তালিকা  । 

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


১) 
সাল : ১৯৪০ (১৩৪৭)
শারদীয়া : মায়া-মুকুর
সম্পাদক : প্রেমেন্দ্র মিত্র
শিবরাম-কাহিনি : আস্তে আস্তে ভাঙো !
From the 'Blogus' blog.
দেব সাহিত্য কুটীর বার্ষিকী ‘মায়া-মুকুর’ (১৯৪০) ।

From the 'Blogus' blog.
‘মায়া-মুকুর’ (১৯৪০)-এ প্রকাশিত ‘আস্তে আস্তে ভাঙো !’


 বন্ধুবর প্রেমেন্দ্র মিত্র-র সম্পাদিত ‘মায়া-মুকুর’ বার্ষিকীর সূত্রে দেব সাহিত্য কুটীর-এ নিয়মিত অতিথি হলেন শিবরাম চক্রবর্তী ।
প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৩ – ১৯৭৪)-এর মজার অলংকরণ সহ বেরল ‘আস্তে আস্তে ভাঙো !’
পরবর্তী বেশ কয়েকটি শারদীয়ায়, এই শিল্পীই চিত্রিত করেছেন চক্রবর্তী-র কত চমৎকার গল্প ।
From the 'Blogus' blog.
শিল্পী প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৩ – ১৯৭৪) ।

দেব সাহিত্য কুটীর থেকে শিবরাম-এর একাধিক একক সংকলন প্রকাশিত হয় ।
প্রথমটিই বোধহয় ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ (১৯৪২ ?) ।
এই  গ্রন্থের  ‘আস্তে আস্তে ভাঙো !’-র সঙ্গে ‘মায়া-মুকুর’ সংস্করণের একটি বড় তফাৎ :
কাহিনির অন্তে চার্লস চ্যাপলিন-এর পরিবর্তে, ডিয়্যানা ডার্বিন-এর ফিল্ম দেখার উদ্যোগ করেন দুঃসংবাদ-দাতা ও গ্রহীতা ।

দুঃসংবাদ জ্ঞাপনের দুশ্চেষ্টা নিয়ে শিবরাম রচিত অপর এক অনুরূপ কিসসা ‘মানতুর খবরদারি’ । 
‘ক্ষান্তমাসি’ বা ‘খবরদারি সহজ নয়’ নামেও কিঞ্চিৎ ভিন্ন চেহারায় যা লভ্য ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


২)
সাল : ১৯৪১ (১৩৪৮)
শারদীয়া : সোনালী ফসল
সম্পাদক : সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়
শিবরাম-কাহিনি : হাওড়া-আমতা রেল লাইনে দুর্ঘটনা !
From the 'Blogus' blog.

‘সোনালী ফসল’ (১৯৪১)-এ প্রকাশিত ‘হাওড়া-আমতা রেল লাইনে দুর্ঘটনা !’
আমতা-আমতা না করেই বলি, এই গল্পখানি ঘিরে ঘটে গেল এক দুর্ঘটনা ১ ।


‘শনিবারের চিঠি’-র পৌষ ১৩৪৮সংখ্যায় ‘সংবাদ-সাহিত্য’ বিভাগে লেখা হল :
From the 'Blogus' blog.
From the 'Blogus' blog.
From the 'Blogus' blog.
‘শনিবারের চিঠি’-র পৌষ ১৩৪৮সংখ্যার ‘সংবাদ-সাহিত্য’ বিভাগ থেকে ।

বিদেশি উৎসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিবরাম চক্রবর্তী-র উত্তর পাওয়া গেল ফাল্গুন ১৩৪৮ সংখ্যায় :
From the 'Blogus' blog.
শিবরাম চক্রবর্তী-র উত্তর, ‘শনিবারের চিঠি’-র ফাল্গুন ১৩৪৮ ।

From the 'Blogus' blog.

‘দাদু নাতির দৌড়’, গ্রন্থম (১৩৬৯) ।
প্রচ্ছদ : শৈল চক্রবর্তী ।


গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শিবরাম-এর বহু ‘উপন্যাস’-ই, খণ্ড-খণ্ড স্বয়ংসম্পূর্ণ ঘটনা দ্বারা আলগাভাবে জোড়া ।
মগন পাঠকমাত্রেই দেখবেন, ঐ একটি ভেঙে পাঁচটি হয় । বিপরীতও সত্য ।

ধরুন ‘দাদু নাতির দৌড়’ গ্রন্থ ২ ।
এই উপন্যাসের অন্তিম খণ্ডাংশ, স্রেফ ‘হাওড়া-আমতা রেল লাইনে দুর্ঘটনা !’
শুধু ছোটগল্পের অনামা বাবা-ছেলে, বইতে হয়ে গেছেন দাদু ঘনশ্যাম আর নাতি টুসি ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৩)
সাল : ১৯৪২ (১৩৪৯)
শারদীয়া : মধু-মেলা
সম্পাদক : বুদ্ধদেব বসু 
শিবরাম-কাহিনি : পড়শীর টান !
From the 'Blogus' blog.
‘পড়শীর টান !’, ‘মধু-মেলা’ (১৯৪২) ।

এই গল্পে, কথক-এর বোন বিনি উপস্থিত । কাজেই নামহীন ন্যারেটর-কে খোদ শিবরাম ধরে নেওয়া যায় ।
প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অলংকরণে অবশ্য এক পাকানো গোঁফ প্রৌঢ়কে দেখা গেছে ।

‘পড়শীর টান’ ৩ নামেই একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বড়দের কাহিনিও লিখেছিলেন শিবরাম চক্রবর্তী ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৪)
সাল : ১৯৪৩ (১৩৫০)
শারদীয়া : রূপ-রেখা
সম্পাদক : নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় 
শিবরাম-কাহিনি : মাস্তুতো ভাই !
From the 'Blogus' blog.
‘মাস্তুতো ভাই !’, ‘রূপ-রেখা’ (১৯৪৩) ।

হেডপীসে এবার চশমা-শোভিত শিবরাম-কথক ।

কাহিনি-কেন্দ্রে লেখক -এর ‘মাস্তুতো ভাই’ । 
অপর একটি গল্পে আছেন হর্ষবর্ধন-এর ‘মাসতুতো ভাই’ ৪ ।
দুটি আলাদা গল্প । একই শিরোনাম । শুধু বানানের তফাৎ ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৫)
সাল : ১৯৪৪ (১৩৫১)
শারদীয়া : বর্ষ-মঙ্গল
সম্পাদক : শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
শিবরাম-কাহিনি : অশ্ব থেকে অশ্বতর !
From the 'Blogus' blog.
‘অশ্ব থেকে অশ্বতর !’, ‘বর্ষ-মঙ্গল’ (১৯৪৪) ।

অশ্বারোহণ ও অধঃপতন । এই বিষয়ে শিবরাম রচিত একাধিক ঘোড়েল গল্পের একটি ।
অবশ্য ‘ঘোড়ার সঙ্গে ঘোরাঘুরি’ ৫ কিংবা ‘ঘোড়ায় চড়ার ব্যায়াম’ ৬ বোধহয় বেশি পরিচিত ।

‘অশ্ব থেকে অশ্বতর !’-র ড্রিলমাস্টার রণদুর্ম্মদ বড়ুয়া উপস্থিত ‘জুতোর মতো অখাদ্য নেই’ ৭ কাহিনিতেও ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৬)
সাল : ১৯৪৫ (১৩৫২)
শারদীয়া : আলপনা
শিবরাম-কাহিনি : চটির সঙ্গে চটাচটি
From the 'Blogus' blog.
‘চটির সঙ্গে চটাচটি’, ‘আলপনা’ (১৯৪৫) ।

এই কাহিনির সঙ্গে, শিবরাম চক্রবর্তী-র পূর্বপ্রকাশিত ‘জীমূতবাহনের জুতো’ ৮ -র মিল আছে ।
সেই গল্পের প্লটখানি আবার ধ্রুবেশ চন্দ্র অধিকারী (গৌরাঙ্গ প্রসাদ বসু ?)-র কাছ থেকে পান লেখক ।
‘আমার ভূত দেখা’ ৯ গ্রন্থে মিলবে এই স্বীকৃতি ।

‘আলপনা’ বার্ষিকীতেই ঘনাদা ১০ -র সঙ্গে আলাপনের পয়লা সুযোগ পান পাঠক ।
প্রেমেন্দ্র মিত্র-র সেই ‘মশা’ যতটা বিখ্যাত, ‘চটির সঙ্গে চটাচটি’-ও তাই ।

From the 'Blogus' blog.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(১৮৭৬ – ১৯৩৮) ।

চক্রবর্তী-র ব্যক্তিগত চটাচটির মাঝে, গল্পে এসেছে এক চট্টোপাধ্যায়-এর উপ-কিসসা ।
সেই তিনি, ‘দেনা-পাওনা’-র নাট্যরূপ ‘ষোড়শী’-কে ঘিরে, যাঁর সঙ্গে শিবরাম-এর সম্পর্ক প্রায় আদালতের দোরে পৌঁছয় ।
স্বয়ং শরৎচন্দ্র ।

সন্ধি-ভেদাভেদ বিস্মৃত হয়েই যেন শিবরাম নানা গল্পে শরৎ-প্রসঙ্গ আনেন ।
‘শরচ্চন্দ্রের সন্ধিভেদ’ ১১ কিংবা ‘ঢিলের বদলে পাটকেল !’ মনে আছে ?

প্রসঙ্গত, ‘চটির সঙ্গে চটাচটি’ ঈষৎ পরিবর্তিত চেহারায় আছে ‘হাসির চোটে দম ফাটে’ ১২ পুস্তকে ।
সেখানে এর নাম ‘পাদুকার উপসংহার’ ।

শরৎচন্দ্র-র জুতোর প্রসঙ্গটুকু আলাদাভাবে ‘এক সত্যিকারের দুর্ঘটনা’ ১৩ নামেও বেরয় ।
মজার ব্যাপার, হেমেন্দ্র কুমার রায়-ও এই একই শরৎ-কিসসা লিপিবদ্ধ করে গেছেন ।
তাঁর রচনাটির নাম ‘পাদুকার গঙ্গালাভ’ ১৪ ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৭)
সাল : ১৯৪৬ (১৩৫৩)
শারদীয়া : অঞ্জলি
শিবরাম-কাহিনি : সভ্য হওয়ার – নানান্ ফ্যাচাং
From the 'Blogus' blog.
‘সভ্য হওয়ার – নানান্ ফ্যাচাং’, ‘অঞ্জলি’ (১৯৪৬) ।

পিপীলিকা-জগতে পীপ করেছেন শিবরাম । 
এই অনন্য এবং অনবদ্য কাহিনিকে একটু বদল করে ‘সভ্য সমাজের যেসব অসুবিধে’ নামে ‘গল্প নাটক অল্প না’ ১৫ বইতে স্থান দেওয়া হয় ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৮)
সাল : ১৯৪৭ (১৩৫৪)
শারদীয়া : রাঙা-রাখী
শিবরাম-কাহিনি : শিক্ষাদান
From the 'Blogus' blog.
‘শিক্ষাদান’, ‘রাঙা-রাখী’ (১৯৪৭) ।

শিক্ষাদান করতে গিয়ে শিক্ষালাভ !
শিকেয় ওঠে মাস্টারি ।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘ছাত্র-চরিতামৃত’ ১৬ কিংবা শিবরাম প্রণীত ‘মন্টুর মাষ্টার’ ১৭ -এর পাশাপাশি ‘শিক্ষাদান’-ও এক স্মরণীয় নজির ।
অবশ্য, এখানে ছাত্রের ছত্রাঘাতে নয়, নিজের লেট করার স্বভাবেই ‘টু লেট’ ঝোলার উপক্রম স্কুল-শিক্ষকের দরজায় ।

১৯৪৭ সালেই ‘শিক্ষাদান’ সংকলিত হয় শিবরাম চক্রবর্তী-র বড়দের বই ‘দেবতার জন্ম ও অন্যান্য গল্প সেই সঙ্গে মহা পাকিস্থানের পথে !’ ১৮ -তে ।
সংযোজিত হল একটি আনকোরা সূচনা । কাহিনির নতুন নাম ‘শিক্ষা দেওয়া সহজ নয়’ ।
‘অকথিত কাহিনী’ ১৯ গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায়ের শেষাংশেও ভিন্ন রূপে ‘শিক্ষাদান’-ই উপস্থিত ।
আবার ‘শিক্ষালাভ’ নামে এটি রয়েছে ‘বন্ধু চেনা বিষম দায়’ ২০ -তে ।
ঐ বইতেই ‘শিক্ষাদান’ শীর্ষক একটি একেবারেই আলাদা গল্পও রয়েছে ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

৯)
সাল : ১৯৪৮ (১৩৫৫)
শারদীয়া : আবাহন
শিবরাম-কাহিনি : মন্টুর গোয়েন্দাগিরি
From the 'Blogus' blog.
‘মন্টুর গোয়েন্দাগিরি’, ‘আবাহন’ (১৯৪৮) ।

চমক চাই ! যে-কায়দাতে ফায়দা মেলে, তা-ই সই ।
এই প্রবণতার ফলে রহস্য রস যে কখন পরিণত হয় হাস্য রসে ...

প্রচলিত গোয়েন্দা কাহিনির নামকরণ, কাঠামো, রগরগে রচনাভঙ্গি, সব বিষয়ে টিকটিকির ঠিক-ঠিক বলে দেওয়া – শিবরাম-এর প্রসন্ন খোঁচার সম্মুখীন হয়েছে বারংবার ।
‘শার্লক হোমস দি সেকেন্ড’ ২১, ‘একটা খুনের গল্প’ ২২, ‘দানবের জন্ম’, কল্কেকাশি সিরিজের গল্প ২৩, উপন্যাসের মধ্যে ‘কৃতান্তের দন্তবিকাশ’ ২৪, ‘বৃহৎ ছাগলাদ্য যুদ্ধ’ ২৫, ‘কে হত্যাকারী ?’ – সর্বত্রই ।
ধাপে ধাপে রহস্য-প্রাসাদ নির্মাণ । অন্তে ধাপ্পার প্রকাশ । পতন ।

‘মন্টুর গোয়েন্দাগিরি’-ও সেই ধাঁচের ।
শুধু চরিত্রদের নাম পালটে দিয়ে ‘গদাই-এর গোয়েন্দাগিরি’ বা ‘হালকা হাসির গল্প’ শিরোনামেও এটি প্রকাশিত হয়েছে ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১০)
সাল : ১৯৪৯ (১৩৫৬)
শারদীয়া : নবারুণ
শিবরাম-কাহিনি : সমগোত্র
From the 'Blogus' blog.
‘সমগোত্র’, ‘নবারুণ’ (১৯৪৯) ।

মিস্ট্রির মত, জনপ্রিয় অলৌকিক কাহিনির প্রতিও কটাক্ষ হেনেছেন শিবরাম চক্রবর্তী ।
‘“কত অজানারে জানাইলে তুমি কত ঘরে দিলে ঠাঁই” (সত্য ঘটনা)’ ২৬, ‘আমার ভূত-দেখা’ ২৭, ‘দশ নম্বর বাড়ির রহস্য’ ২৮, ‘না ভূতের গল্প নয়’ ২৯, ‘ভূত আর ভুতো !’ ৩০, ‘দ্বিধাগ্রস্ত আমি !’ (নামান্তর – ‘নিজের ভূত নিজে দেখা !’), ‘গোলদিঘির ভূত !’, ‘ভূত না অদ্ভুত ?’ – সবারই মনে থাকবে ।

‘সমগোত্র’-র সম গোত্রের আর এক কিসসা ‘আশ্রম পীড়া’ ৩১ ।
দুটি গল্পেরই চরিত্রদ্বয় এককালে মানুষ ছিলেন ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১১)
সাল : ১৯৫০ (১৩৫৭)
শারদীয়া : উদয়ন
শিবরাম-কাহিনি : খেলার ঠেলা
From the 'Blogus' blog.
‘খেলার ঠেলা’, ‘উদয়ন’ (১৯৫০) ।

পরপর দশটি কাহিনি ।
শিবরাম চক্রবর্তী ও প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কলম-তুলি জুটিতে অভ্যস্ত ছিলেন দেব সাহিত্য কুটীর পূজাবার্ষিকী-র পাঠককুল ।
‘খেলার ঠেলা’-য় ছবি আঁকেন শৈল চক্রবর্তী (১৯০৯ – ১৯৮৯) ।
From the 'Blogus' blog.
শিল্পী শৈল চক্রবর্তী (১৯০৯ – ১৯৮৯) ।
অবশ্য, সেই ‘পঞ্চাননের অশ্বমেধ’ গ্রন্থ ৩২ থেকেই বোধহয় শিব্রাম-শৈল এক ব্র্যাকেটভুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন । 
লেখক-এর কথায়, “আপনার ছবিতেই আমি থাকব - ... তাহলে আর বুড়ো হবো না, বুঝলেন ।” ৩৩ 

হয়েছেও তাই ।
আমাদের প্রিয় সাহিত্যিকের কখানি ফটোই বা মিলেছে ?
তার বিকল্প হিসাবে, সমস্ত সম্ভাব্য মুডে, শ্রীশৈল-র চিত্র থেকেই চেনা গেছে শিবরাম চক্রবর্তী-কে । অবিরাম ।
বয়স তাঁর বাড়েনি । 
দেব সাহিত্য কুটীর শারদীয়াসমূহের মধ্যে, ‘উদয়ন’ থেকেই শৈল-অঙ্কিত শিব্রাম-এর উদয় । 
‘খেলার ঠেলা’ শীর্ষচিত্রেই মার্কামারা কেশবিন্যাস ও বোন বিনি সহযোগে তিনি হাজির ।

বিনি-র বেড়াল ও তার চিকিৎসা সংক্রান্ত আরও একটি গল্প ‘অথ আয়োডিন-ঘটিত’ ৩৪ ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১২)
সাল : ১৯৫১ (১৩৫৮)
শারদীয়া : অভিষেক
শিবরাম-কাহিনি : সত্যবাদিতার পুরস্কার !
From the 'Blogus' blog.
‘সত্যবাদিতার পুরস্কার !’, ‘অভিষেক’ (১৯৫১) ।

‘সত্যবাদিতার পুরস্কার !’-এর অলংকরণে ফিরলেন চিত্রশিল্পী প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায় ।

ইস্কুল-কেন্দ্রিক শিশু-কিশোর সাহিত্যে অদ্বিতীয় সুকুমার রায় বা মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ।
শিবরাম-ও কম যান না ।
বিশেষত স্কুল বা কলেজের বোর্ডিং-জীবন নিয়ে তাঁর বিচিত্র গল্পগুচ্ছ ।

‘ইঁদুরদের দূর করো’ ৩৫, ‘সিদ্ধিলাভ !’ ৩৬, ‘সীট + আরাম = সীটারাম’ কিংবা ‘অ-দ্বিতীয় পুরস্কার’-এ লেখক স্বয়ং একটি চরিত্র ।
আবার ‘আলেকজেন্ডারের দিগ্বিজয়’ ৩৭ বা ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’ ৩৮ প্রভৃতি হস্টেল-কাহিনিতে তিনি অনুপস্থিত ।
‘সত্যবাদিতার পুরস্কার !’-এও ।
এর সত্যবাদী নায়কটির নাম সত্যপ্রিয় । ‘শুঁড়-ওলা বাবা’ ৩৯ বা ‘সত্যপ্রিয়র সত্যপ্রিয়তা’-র ক্ষেত্রেও তাই । গল্পত্রয়ীর মূল সুরও কাছাকাছি ।


দেব সাহিত্য কুটীর পূজাবার্ষিকী-তে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘অভিষেক’ হল এই শারদীয়াতেই ।
এর চার-পাঁচ বছর আগেই সৃষ্ট হয়েছেন টেনিদা । ৪০
‘অভিষেক’-এর ‘দুরন্ত নৌকা ভ্রমণ’ গল্পে অবশ্য তিনি নেই । তবে প্যালারাম হাজির । 

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- 


গোড়াতেই বলেছি, ‘শিশু গল্পিকা’ (১৩৪৩)-র কথা । সম্পাদক ছিলেন সুধীরচন্দ্র সরকার । 
এই বার্ষিকীর ১৩৪৪ সনের পুনর্মুদ্রণে মিলেছে শিবরাম চক্রবর্তী-র ‘অথ আয়োডিন-ঘটিত’ । 
অথচ ‘শিশু গল্পিকা’-র পরবর্তী কোনো সংস্করণ থেকে গল্পটি বেমালুম বাদ দিয়ে দেওয়া হয় ।
From the 'Blogus' blog.
বার্ষিকী ‘শিশু গল্পিকা’ (১৯৩৬) ।
 
From the 'Blogus' blog.
‘অথ আয়োডিন-ঘটিত’, ‘শিশু গল্পিকা’ (১৯৩৬) ।


  
দেব সাহিত্য কুটীর তালিকায় পাওয়া যাচ্ছে আর একটি নাম ‘ছোটদের মাধুকরী’ (১৩৪৫) ।
প্রকৃতপক্ষে, ব্রজমোহন দাশ সম্পাদিত এই বার্ষিকীর প্রকাশক নিউ বেঙ্গল প্রেস ।
From the 'Blogus' blog.
বার্ষিকী ‘ছোটদের মাধুকরী’ (১৯৩৮) ।
From the 'Blogus' blog.
‘খাদ্য-খাদক সম্বন্ধ’, ‘ছোটদের মাধুকরী’ (১৯৩৮) ।

‘ছোটদের মাধুকরী’-তে ছাপা শিবরাম-কাহিনি ‘খাদ্য-খাদক সম্বন্ধ’ ।
পরে ‘অগ্নিমান্দ্যের মহৌষধ’ শিরোনামে সুপরিচিত ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১৯৫৩ সালে বেরয় শিবরাম চক্রবর্তী-র ‘জন্মদিনের উপহার’ ।
গ্রন্থে, অন্যান্য রচনার সঙ্গে সংকলিত হল ‘মায়া-মুকুর’ (১৯৪০) থেকে শুরু করে ‘অভিষেক’ (১৯৫১) বার্ষিকীতে টানা প্রকাশিত লেখকের এক ডজন হাসির গল্প ।
মূল অলংকরণ সহ ।
From the 'Blogus' blog.

‘জন্মদিনের উপহার’ (১৯৫৩)
প্রচ্ছদ : প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ।
প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রচ্ছদে,  শিব্রাম ধরা পড়লেন তাঁর পেটেন্ট হেয়ার স্টাইল সমেত ।

মাঝের বছর, ১৯৫২-তে দেব সাহিত্য কুটীর বার্ষিকী ‘পরশমণি’, চকরবরতী-র পরশহীন ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

‘শারদ শিবরাম (১৯৪০ – ১৯৫১)’ বৃত্তান্ত শেষ । 
এই পর্যায়ে, হর্ষবর্ধন-গোবর্ধন সিরিজের কোনো রচনা নেই দেব সাহিত্য কুটীর বার্ষিকীতে । ৪১
বারান্তরে এই প্রকাশনার বাদবাকি শারদীয়ায় ছাপা শিবরাম-এর ফিরিস্তি নিয়ে ফিরতে পারে BlOGUS ।
পাঠকদের ইচ্ছে থাকলে তবেই ।

আপনাদের প্রতিক্রিয়ার জন্য সাগ্রহে অপেক্ষমাণ BlOGUS  ব্লগ ।
সেই সঙ্গে ফেসবুক-এর ‘BlOGUS. A Bogus blog’  গ্রুপ :

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১ বিস্তারিত বিবরণের জন্য দ্রষ্টব্য : ‘শিবরামের জীবনকথা’, অরুণা চট্টোপাধ্যায়, ‘শিরোনাম শিবরাম’, কোরক, বইমেলা ১৯৯৬ ।

২ প্রকাশক : গ্রন্থম, ১৩৬৯ ।

৩ ‘শিব্রাম অমনিবাস’ ৬, নবপত্র প্রকাশন ।

৪ ‘হর্ষবর্ধন অমনিবাস’, এশিয়া পাবলিশিং ।

৫ ‘রামধনু’, চৈত্র ১৩৪৩ ।

৬ ‘রামধনু’, জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৪ ।

৭ ‘মাসিক বসুমতী’, জ্যৈষ্ঠ ১৩৫৩ ।

৮ ‘রংমশাল’, চৈত্র ১৩৪৭ ।

৯ প্রকাশক : ফাইন আর্ট পাবলিশিং হাউস, ১৩৪৮ ।

১০ দ্রষ্টব্য ‘ঘনাদা গ্যালারি’ ওয়েবসাইট :

১১ ‘আনন্দমেলা’, পৌষ ১৩৮২ ।

১২ প্রকাশক : দেব সাহিত্য কুটীর, ১৩৮৩ ।

১৩ ‘আমার ভূত দেখা’, ফাইন আর্ট পাবলিশিং হাউস, ১৩৪৮ ।

১৪ ‘স্মরণের যাদুঘরে’, হেমেন্দ্রকুমার রায়, ডি এম লাইব্রেরি, ১৩৬৩ ।

১৫ প্রকাশক : দেব সাহিত্য কুটীর, ১৯৭০ ।

১৬ ‘শিশুসাথী’, বৈশাখ ১৩৫৬ ।

১৭ ‘রামধনু’, আষাঢ় ১৩৪১ ।

১৮ প্রকাশক : দি বুক এম্পরিয়াম লিমিটেড, ১৩৫৪ ।

১৯ প্রকাশক : বাণীশিল্প, ১৩৮৩ (?) ।

২০ প্রকাশক : রীডার্স কর্নার, ১৩৫৫ ।

২১ ‘মৌচাক’, মাঘ ১৩৪৭ ; নামান্তরে ‘অমলের গোয়েন্দাগিরি’ ।

২২ ‘রামধনু’, আশ্বিন ১৩৫৬ ।

২৩ দ্রষ্টব্য BlOGUS ব্লগে ‘অতিথি সমাবেশ : কল্কেকাশি , পরাশর (, ব্যোমকেশ)’ :

২৪ ‘জলছবি’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশিত, ১৩৪৪ (?) ।

২৫ ‘রংমশাল’-এ ধারাবাহিক, ১৩৪৮ – ১৩৪৯ ; অপর নাম ‘বর্মার মামা’ ।

২৬ ‘রংমশাল’, কার্ত্তিক ১৩৪৪ ; ‘স্যাঙাতের সাক্ষাৎ’ ও ‘বাইশ ইঞ্চি পা’ এরই পরিবর্তিত রূপ ।

২৭ ‘রংমশাল’, বৈশাখ ১৩৪৮ ।

২৮ ‘মৌচাক’, কার্ত্তিক ১৩৫৭ ।

২৯ ‘মৌচাক’, বৈশাখ ১৩৫৮ ।

৩০ ‘মৌচাক’, আশ্বিন ১৩৫৯ ।

৩১ ‘মৌচাক’, কার্ত্তিক ১৩৫৮ ।

৩২ প্রকাশক : এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স, ১৩৪২ ।

৩৩ ‘শিবরাম অদ্বিতীয়’, শৈল চক্রবর্তী, ‘যষ্টিমধু’, শিবরাম শ্রদ্ধার্ঘ সংখ্যা, ১৩৮৮ ।

৩৪ এটিই সেই কাহিনি ‘শিশু গল্পিকা’ (১৯৩৬) বার্ষিকীতে যা প্রকাশিত হলেও, পরে বর্জিত হয় ।
‘জন্মদিনের উপহার’ (দেব সাহিত্য কুটীর, ১৩৬০) সংকলনে ‘অথ আয়োডিন-ঘটিত’ পাওয়া যাবে । 

৩৫ ‘রংমশাল’, বৈশাখ ১৩৪৯ ।

৩৬ ‘বার্ষিক শিশুসাথী’, ১৩৬৪ ।

৩৭ ‘রামধনু’, ভাদ্র ১৩৪০ ।

৩৮ ‘রামধনু’, চৈত্র ১৩৪০ ।

৩৯ ‘মৌচাক’, ভাদ্র ১৩৩৯ (?) । 

৪০ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়-এর প্রথম প্রকাশিত টেনিদা-কাহিনি ‘খট্টাঙ্গ ও পলান্ন’ (১৯৪৬) ।
দ্রষ্টব্য ‘টেনিদা ট্রেজারি’ ব্লগ :
https://tenida-treasury.blogspot.in/2016/11/Khattaanga-O-Palaanna.html
  

 
৪১ প্রথম প্রকাশিত হর্ষবর্ধন কাহিনির জন্য দ্রষ্টব্য BlOGUS ব্লগে ‘হাজির হলেন হর্ষবর্ধন !’ : 
 
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


শিবরাম চক্রবর্তী-র গ্রন্থপঞ্জীর বিবরণ প্রধানত গৃহীত হয়েছে শ্রী দেবাশিস মুখোপাধ্যায় সংকলিত ‘ শিবরাম চক্রবর্তীর বই-তালিকা’ থেকে,
‘শিরোনাম শিবরাম’, কোরক, জানুয়ারি ২০০৮ সংস্করণ ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------